নির্বাচনবৃহত্তর উত্তরামত প্রকাশরাজনীতি

মানবিক ও ইনসাফের ঢাকা-১৮ গড়তে আরিফুল ইসলামের ১১ দফা ইশতেহার

ঢাকা-১৮ আসনকে একটি মানবিক, নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আরিফুল ইসলাম। “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বলে শুরু করা এই ইশতেহারে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যানজট, আবাসন, নারী-শ্রমিক অধিকার থেকে শুরু করে পরিবেশ ও শিশু উন্নয়ন—সব খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইশতেহারের প্রথম দফায় সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকার জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তারদের ফি ও ল্যাব টেস্টের নীতিমালা সুপারিশ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী সরকারি স্কুল-কলেজ স্থাপন ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়। শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ স্কুল এবং ডে-কেয়ার সুবিধা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় দফায় যানজট নিরসন ও হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। রাস্তা সংস্কার, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, দূরপাল্লার বাস লাইন সংযোজন এবং নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ভিত্তিক স্মার্ট হকার ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে।

চতুর্থ দফায় হোল্ডিং ট্যাক্স সমাধান নিয়ে বলা হয়—দক্ষিণখান, উত্তরখান, খিলখেত ও তুরাগ এলাকার বাসিন্দাদের হোল্ডিং ট্যাক্স জটিলতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পঞ্চম দফায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ দফায় নিরাপদ আবাসিক এলাকা গড়তে রাস্তা সংস্কার, সুসংগঠিত পার্কিং, দূরপাল্লার বাস লাইন, নির্দিষ্ট সময়ে স্মার্ট হকার ব্যবস্থা ও আধুনিক স্ট্রিট লাইটিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়।

সপ্তম দফায় নারী অধিকার রক্ষায় ঘর ও কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়। নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস, স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট এবং বাসে সিসিটিভি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অষ্টম দফায় শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে নারী শ্রমিক কারখানা ও গার্মেন্টসে নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নবম দফায় পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের নদী, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্জ্য অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়।

দশম দফায় শিশু উন্নয়ন ও বিনোদন নিশ্চিত করতে প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ, শিশু পার্ক ও ইনডোর গেম জোন নির্মাণ এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।

একাদশ ও শেষ দফায় বলা হয়—এই ১১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা-১৮ কে একটি মানবিক, নিরাপদ, সবুজ ও ইনসাফভিত্তিক মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা-১৮ আমার বাড়ি, এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নই আমার রাজনীতি।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button