ঢাকা বিমানবন্দরে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা আটক, ফোন ও বিপুল মালামাল উদ্ধার


মুক্তমন রিপোর্ট: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. তাজুল ইসলাম (৪৮)-কে আটক করেছে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় তার কাছ থেকে ৫৫টি মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, চেতনানাশক ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
এয়ারপোর্ট এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন (১৮) তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। বিদায় পর্ব শেষে ডিপার্চার এলাকায় অবস্থানকালে তিনি সরল বিশ্বাসে তাজুল ইসলামের দেওয়া কফি পান করেন। পরে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে এপিবিএনের সদস্যরা সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামকে আটক করে তার দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তার ব্যাগ থেকে প্রায় ১৫ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল ইসলাম জানান, তারা বাস ও রেলস্টেশন এলাকায় যাত্রীদের টার্গেট করে প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে চা, কফি বা কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে ভুক্তভোগীদের অজ্ঞান করে মূল্যবান মালামাল হাতিয়ে নেয়। সন্দেহ এড়াতে অনেক সময় অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির অভিনয়ও করতেন তারা।
এছাড়া তিনি আরও জানান, ৪/৫ জন সদস্য নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টির চক্র গড়ে তুলেছেন এবং চুরি করা মালামাল মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে সংরক্ষণ করতেন।
তথ্যের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট (১৩) এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার ফাউজুল কবীর মঈনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দারুসসালাম এলাকার হোটেল রয়েলে অভিযান চালায়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়—
- ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন
- ১০টি এয়ারবাড হেডফোন
- ১৫টি হাতঘড়ি
- ৪ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট
- ২টি চেতনানাশক পুরিয়া
- নগদ ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা
- সৌদি আরবের ৫৩.৫০ রিয়াল
- তুরস্কের ১ লিরা
- অন্যান্য মালামাল
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় ১৭ মে ২০২৬ তারিখে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ, চোরাচালান রোধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



