মুক্তমন রিপোর্টার : অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী পাঠানোর নামে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ওমর নেওয়াজ আলীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওমর নেওয়াজ আলী আইএএলসি—ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডমিশন অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিদেশে পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ওমর নেওয়াজ আলীকে আটক করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। পরে তাকে ধানমন্ডি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইএএলসির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, একেকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি বড় অংশ কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে।
তবে অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা ও অর্থের পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা না করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ফয়সাল ও ওমর নেওয়াজ আলী আত্মগোপনে চলে যান। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ধানমন্ডির ২ নম্বর রোডের ফরচুন টাওয়ারে ভাড়া নেওয়া কার্যালয় থেকে আইএএলসির বিদেশে উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার আদালতে নেওয়ার সময় উপস্থিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা বিক্ষোভ করেন। তারা ওমর নেওয়াজ আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আত্মসাতের অভিযোগে নেওয়া অর্থ ফেরত এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীরা বলেন, তাদের অনেকেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের আশায় পরিবারের সঞ্চয় ও সম্পদ বিক্রি করে আইএএলসিকে অর্থ দিয়েছেন। এখন অর্থ হারিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওমর নেওয়াজ আলীর বিরুদ্ধে ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের নিউ কলোনির বাসিন্দা হলেও বিভিন্ন সময় লালমাটিয়া ও বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থান করতেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওমর নেওয়াজ আলীর বিদেশে যাওয়ার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে ওমর নেওয়াজ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রশ্ন তোলেন। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তারা। তবে এ বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আইএএলসির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ফয়সালকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে আত্মসাতের অভিযোগে নেওয়া অর্থ ফেরত পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।