ফেনী প্রতিনিধি : ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত, সড়ক দেবে যাওয়া ও উঁচু অংশ তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ও মাঝারি যানবাহন। একই সঙ্গে জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সড়কগুলোর এসব সমস্যা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমার কাছে তুলে ধরা হলে তিনি দ্রুত মেরামতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সরেজমিনে ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেনী-নোয়াখালী সড়কের মহিপাল ট্রমা সেন্টারের বিপরীত পাশ, ফলের আড়তের কাছাকাছি তেমুহনী-পাঁচগাছিয়া এবং জয়লস্কর বিজিবি ক্যাম্পের সামনের অংশে বড় গর্ত ও সড়ক দেবে গিয়ে উঁচু অংশ তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় প্রায়ই যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া সিলোনিয়া বেকের বাজার ও দাগনভূঞা জিরো পয়েন্ট এলাকাতেও সড়কের অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়গুলো নির্বাহী প্রকৌশলীর নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত কার্যকর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
লালপোলে দুর্ঘটনা, দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান নেই
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপোল এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ সমস্যা সমাধানের দাবিতে ফেনীবাসী বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন, মানববন্ধন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করলেও এখনো দৃশ্যমান ও টেকসই সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের মতে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে স্থানীয় যানবাহন ও দূরপাল্লার যান চলাচল আলাদা করতে সার্ভিস রোড, ফ্লাইওভার ও ছোট সেতুর মতো অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও হালকা যানবাহন নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং দূরপাল্লার যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পায়।
তাদের দাবি, দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল অংশেও দুর্ঘটনা কমাতে এমন আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ইউটার্ন ব্যবস্থায় স্থানীয় মানুষের সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাতায়াত আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
মহিপাল-সার্কিট হাউস সড়ক নিয়েও অভিযোগ
সওজের পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে মহিপাল-সার্কিট হাউস সড়কে প্রতিদিন অনেক মানুষকে উল্টো পথে চলাচল করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসক, জেলা ও দায়রা জজ, পুলিশ সুপারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও বাসভবন থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় এ সমস্যার মুখোমুখি হন বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে লালপোল থেকে সোনাগাজী সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
বেদেপল্লী নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা
ফেনীর লালপোল এলাকার ‘বেদেপল্লী’ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মালিকানাধীন জায়গায় অবস্থিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সেখানে মাদক কেনাবেচার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রশাসনের অভিযান হলেও পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সওজের জায়গায় অবস্থিত ওই পল্লীতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে।
তিনি বলেন, সেখানে অনেক শিশু-কিশোর ও পরিবার বসবাস করছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া হঠাৎ করে তাদের উচ্ছেদ করা যৌক্তিক হবে না। তবে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, লালপোল এলাকায় দুর্ঘটনা কমাতে দ্রুত বিকল্প সার্ভিস রোড বা ওভারপাস নির্মাণ এবং ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত সংস্কার করা। একই সঙ্গে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Muktomon/TA