তিন জেলায় ৩৫০-এর বেশি বর্জ্য কর্মীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিল ইউএনডিপি


নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ, কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলে অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীদের জন্য ছয়টি জেন্ডার সংবেদনশীল স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে ৩৬০ জনের বেশি নারী-পুরুষ বর্জ্য কর্মী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের রক্তচাপ, রক্তের শর্করা, ওজন ও শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি নারী এমবিবিএস চিকিৎসকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবার আওতায় দীর্ঘমেয়াদি পিঠ ও জয়েন্টের ব্যথা, চর্মরোগ, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, মানসিক চাপ এবং নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, আয়রন সাপ্লিমেন্ট, অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম এবং ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হয়।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের প্রজেক্ট এক্সপার্ট সামিউল আহসান বলেন, “বর্জ্য কর্মীরা একটি কার্যকর সার্কুলার ইকোনমির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে অবহেলিত। এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলো তাদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অংশ।”
স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দনা রানী সরকার বলেন, বর্জ্য সংগ্রহকারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ প্রদান একটি মানবিক উদ্যোগ।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরান জানান, ভবিষ্যতে নিবন্ধিত প্লাস্টিক বর্জ্য কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য ডেটাবেস তৈরি এবং স্বাস্থ্য বীমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহী বলেন, বৈশ্বিক প্লাস্টিক সংকট মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৮ লাখ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীরাই সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন।
প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের লক্ষ্য ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে তিন জেলায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা এবং ৬০০ নারীসহ দুই হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করা।



