ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তায়, নতুন দফা সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন


মুক্তমন ডেস্ক, ১২ এপ্রিল ২০২৬: প্রায় চার দশক পর প্রথমবারের মতো সরাসরি মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অধিকার, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক বিষয়কে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো ধরনের পারমাণবিক কর্মসূচি বা অস্ত্র উন্নয়ন কার্যক্রম চালানোর অনুমতি না দেওয়ার অবস্থানে অনড় থাকে। মূলত এই মৌলিক মতপার্থক্যের কারণেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।
তবে আলোচনার ব্যর্থতা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএকে বলেন, কূটনীতি কখনো শেষ হয় না এবং এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি জানান, পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারী ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস জানায়, বর্তমানে পরবর্তী দফা আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই তেহরানের। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি করতে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার সময় উচ্চপর্যায়ে একাধিক দফায় যোগাযোগ অব্যাহত ছিল এবং ইরানকে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানকে অবশ্যই পারমাণবিক সক্ষমতা থেকে সরে আসতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও আঞ্চলিক জটিলতার কারণে এই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেই ভবিষ্যতে নতুন করে সংলাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


