এসএসসি ফল নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ, টেস্ট পরীক্ষায় ৪৮৩ জনের মধ্যে ১০১ জন অকৃতকার্য হওয়ার তথ্য প্রকাশ

‘ছাঁটাই করে নয়, নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিশ্রমেই সাফল্য’: নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলের দাবি

‘ছাঁটাই করে নয়, নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিশ্রমেই সাফল্য’: নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলের দাবি

মুক্তমন ডেস্ক : নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের এসএসসি-২০২৬ সালের ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রচারিত সমালোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ‘ছাঁটাই’ করে শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়। বরং দীর্ঘ এক বছরের নিয়মিত ক্লাস, মডেল টেস্ট, রিকভারি ক্লাস, গাইড টিচারের তত্ত্বাবধান, হোম ভিজিট ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল কোনো ব্যক্তির প্রচারণার বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। তাই ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করার আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা উচিত।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘সত্যকে আড়াল করে, আংশিক তথ্য উপস্থাপন করে কিংবা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্জনকে খাটো করা যায় না।’

টেস্ট পরীক্ষায় ৪৮৩, এসএসসিতে ৩৮২

নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি-২০২৬ ব্যাচের টেস্ট পরীক্ষায় মোট ৪৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। পরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮২ জন শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই GPA-5 অর্জন করেছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, টেস্ট পরীক্ষায় ৩৩ শতাংশের কম নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের সুযোগ থাকে না। ফলে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য ১০১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

‘ছাঁটাই নয়, শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া ঠেকাতেই নিয়মিত নজরদারি’

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বছরজুড়েই বিশেষ একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস এবং প্রতিটি অধ্যায় শেষে মডেল টেস্ট। প্রতি শনিবার নেওয়া হয় রিকভারি ক্লাস। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন আদায় করা হয়। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে পড়া দিতে ব্যর্থ হলে আফটার-স্কুল সেশনে তার পড়া আদায় করার পর ছুটি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া প্রতি ১২ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে গাইড টিচার নিয়োজিত থাকেন। ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও সার্বিক অগ্রগতির নিয়মিত খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বাসায় নিয়মিত হোম ভিজিটের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিভাবকদেরও যুক্ত রাখা হয়

প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়, প্রতিটি পার্বিক পরীক্ষার পর ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের ফলাফল পর্যালোচনার পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পরামর্শ অনুযায়ী সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ে রেখে পড়াশোনা করানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

এ ছাড়া প্রতি মাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে ফলোআপ করা হয় বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বছরে ছুটি ৩০ দিন, কম ফল করা শিক্ষার্থীদের হোস্টেল সুবিধা

নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের দাবি, তাদের বার্ষিক ছুটির পরিমাণ মাত্র ৩০ দিন। পাশাপাশি পরীক্ষায় অপেক্ষাকৃত কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী হোস্টেল সুবিধা দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সব শিক্ষার্থীর মেধা ও দক্ষতা একই ধরনের নয়। কেউ খেলাধুলায় ভালো, কেউ ছবি আঁকা বা সৃজনশীল কাজে দক্ষ, আবার কেউ একাডেমিক পড়াশোনায় ভালো করে। তাই শিক্ষার্থীদের ভিন্ন সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়েই তাদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

‘প্রতিযোগিতা হোক মেধায়, অপপ্রচার নয়’

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তাদের ফলাফল নিয়ে কারও ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য, শালীনতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা থাকা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিযোগিতা হোক মেধায়, প্রচেষ্টা হোক অর্জনে—অপপ্রচার নয়। সত্যের পক্ষে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। ফলাফলই কথা বলুক, তথ্যই সত্যের সাক্ষী হোক।’

এর আগে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের এসএসসি ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে—টেস্ট পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার মাধ্যমে কি শতভাগ GPA-5 নিশ্চিত করা হয়েছে?

স্কুল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ ব্যাখ্যায় টেস্ট পরীক্ষার মোট শিক্ষার্থী, অকৃতকার্য এবং এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর পৃথক সংখ্যা প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য ১০১ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ ও বোর্ডের বিধানসংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।