দারাজে মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও অননুমোদিত যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির অভিযোগ

ছবি : দারাজের ওয়েবসাইট থেকে স্ক্রীনশট নেয়া
ছবি : দারাজের ওয়েবসাইট থেকে স্ক্রীনশট নেয়া

মুক্তমন রিপোর্ট : দেশের অন্যতম বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজে মাদক সেবনের সরঞ্জাম, অননুমোদিত যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং সন্দেহজনক বিভিন্ন পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এর মধ্যেই প্ল্যাটফর্মটিতে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন পণ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে বিভিন্ন নামে মাদক সেবনের অনুষঙ্গ ও যৌন উত্তেজক পণ্য তালিকাভুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় ফিল্টারিং ব্যবস্থা এড়িয়ে মাদক সেবনের সরঞ্জাম কখনো সাধারণ পণ্যের নামে বিক্রি করা হচ্ছে।

একটি পণ্য ‘Soil Flute Made by Pure Clay’ নামে তালিকাভুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, এর আড়ালে মাটির কলকি বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ‘এয়ার ফ্রেশনার’, ‘এসেনশিয়াল অয়েল’, সিবিডি অয়েল বা অ্যারোমেটিক অয়েলের পরিচয়ে তরল মাদক বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে অনলাইনে ক্রেতা সেজে অর্ডার দিয়ে বিপুল পরিমাণ তরল THC উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একজন কেমিস্টকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক বিক্রির অভিযোগে বাড্ডা থানায় মামলাও হয়েছে। মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিপজ্জনক তরল মাদক বিক্রির কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

এদিকে দারাজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনবিহীন বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ওষুধ ও রাসায়নিক পণ্য বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এসব পণ্য অনেক ক্ষেত্রে ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ বা ‘হারবাল প্রোডাক্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যথাযথ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় যাচাই ছাড়া এসব পণ্য বিক্রি হলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় পক্ষের কোনো বিক্রেতা অবৈধ পণ্য তালিকাভুক্ত করলেই প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হতে পারে না। নিষিদ্ধ পণ্য শনাক্ত করা, বিক্রেতার তথ্য যাচাই এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশ জানিয়েছে, পণ্যের নিরাপত্তা, প্রচলিত আইন মেনে চলা এবং গ্রাহকের আস্থাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা অনুযায়ী বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের আরও পণ্য রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে নজরদারি ও যাচাই কার্যক্রম জোরদারের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নজরদারির মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।