মুক্তমন রিপোর্টার : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে দারুণ জয়ের পর এখন দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের অপেক্ষায় টাইগাররা। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর বাংলাদেশের মানুষের উচ্ছ্বাসকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের সময়ের উদযাপনের সঙ্গে তুলনা করেছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে জয় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। তৃতীয় প্রচেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। এই সাফল্যের পর দেশে-বিদেশে প্রশংসা পাচ্ছে দলটি।
প্রথম টেস্ট জয়ের পর দলের অনুভূতি কেমন ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে রেভস্পোর্টজকে ফিল সিমন্স বলেন, বাংলাদেশের উদযাপনকে তিনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের সঙ্গে তুলনা করছিলেন।
সিমন্স বলেন, “আমরা বিষয়টিকে খানিকটা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের সঙ্গে তুলনা করছিলাম। বিশ্বকাপের সময় ঢাকার রাস্তাঘাটের চিত্রটা বিশ্বাস করার মতো ছিল না। গতকালও আমরা বলছিলাম, ঘটনাটা অনেকটাই সেরকম।”
বাংলাদেশের মানুষের উচ্ছ্বাস এবং ভক্তদের পাঠানো অসংখ্য বার্তা সিমন্সের কাছে জয়টিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। তিনি বলেন, অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে অস্ট্রেলিয়ার এই সফরে এমন একটি জয় সম্ভব।
ক্যারিবিয়ান এই কোচ বলেন, মানুষের উদযাপন এবং বাংলাদেশ থেকে পাওয়া বার্তাগুলো মিলিয়ে পুরো বিষয়টি তার কাছে বিশেষ অনুভূতির। বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই জয় কতটা আনন্দের হতে পারে, সেটি তিনি অনুভব করতে পারছেন বলেও জানান।
তবে সিরিজে এখনও একটি ম্যাচ বাকি থাকায় বড় উদযাপন নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন সিমন্স। সাধারণ পরিস্থিতিতে এমন জয়ের পরও খেলোয়াড়দের বড় ধরনের উদযাপনের অনুমতি দিতেন না বলে জানান তিনি।
কিন্তু এবার নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি সিমন্স। ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের আনন্দ-উদযাপন উপভোগ করেই সময় কাটিয়েছেন তিনি।
সিমন্স বলেন, “সাধারণত আমি হলে বড় কোনো উদযাপনের অনুমতি দিতাম না, কারণ আমাদের সামনে এখনও একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। কিন্তু এবার আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। ড্রেসিংরুমেও আমাকে একপাশে বসে তাদের আনন্দ উপভোগ করতে হয়েছে, কারণ জয়টা সত্যিই অনেক বড় ছিল।”
দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের আনন্দও বিশেষভাবে ছুঁয়ে গেছে সিমন্সকে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা এবং নানা কঠিন সময় পেরিয়ে আসা মুশফিকের মুখে এমন আনন্দ দেখতে পাওয়া তার কাছে দারুণ অনুভূতির ছিল বলে জানান প্রধান কোচ।
সিমন্স বলেন, মুশফিকুর রহিমের মতো দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থাকা একজন ক্রিকেটারের মুখে এই আনন্দ দেখা ছিল অসাধারণ। পুরো দল যেভাবে জয়টি উদযাপন করেছে এবং মুহূর্তটি উপভোগ করেছে, সেটিও তার কাছে অত্যন্ত আনন্দের ছিল।
এখন সেই আনন্দকে পেছনে রেখে দ্বিতীয় টেস্টে মনোযোগ দিতে হবে বাংলাদেশকে। ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে আরও একবার নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে টাইগারদের।