মুক্তমন রিপোর্টার : বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপ বা গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে।
সরকারের নির্দেশনার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এসব সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বুধবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে চার ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ওই ঘটনার পর ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তবে ওই তালিকায় থাকা একজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে অন্য একটি অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২০২৫ সালের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই কর্মসূচি পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তারা কর্মবিরতিও পালন করেন। এতে কয়েক দিন বিএসইসিতে অচলাবস্থা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, কমিশনের সভা চলাকালে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী জোর করে সভাকক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন। পরে কমিশনের মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, সিসিটিভি ও ওয়াই-ফাই সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া, লিফট অচল করা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।
সরকারি তদন্ত ও বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে এবার ওই ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। এর ফলে বিএসইসির ইতিহাসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা ঘটল।