মুক্তমন রিপোর্টার : যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়লে এর দায় নিজের ওপর না নিয়ে দলের কংগ্রেস সদস্যদের ওপর চাপাতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর একাধিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে ট্রাম্পের অনীহা নতুন নয়। অতীতেও নির্বাচনী পরাজয়ের পর তিনি ভিত্তিহীন ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। তবে এবার নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি যেন সম্ভাব্য পরাজয়ের জন্য আগেভাগেই বিকল্প ব্যাখ্যা তৈরি করছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা তাঁর রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে যথেষ্ট কাজ না করলে নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ, রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে দলের নেতাদেরই তিনি দায়ী করতে পারেন।
বুধবার ট্রাম্প তাঁর এক সমর্থকের প্রায় এক মাস পুরোনো একটি পোস্ট পুনরায় শেয়ার করেন। সেখানে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা যদি ট্রাম্পের নীতির পক্ষে দৃশ্যমান ফলাফল দিতে না পারে, তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে তাদের।
এর পরপরই ট্রাম্প নিজের সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘মিশন সম্পন্ন’ ধরনের একটি বার্তাও প্রকাশ করেন। এসব পোস্টের মাধ্যমে তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন—তাঁর প্রশাসন কাজ করছে, কিন্তু কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না।
তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার দাবি করেন, রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে চলতি মাসে Punchbowl News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও সরাসরি বলেন, অনেক ভোটার অন্য রিপাবলিকান নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ, কিন্তু তাঁর ওপর নন। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে এবং তাঁর প্রতি অসন্তোষ যথেষ্ট বেশি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকানদের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো ভোটার উপস্থিতি। প্রেসিডেন্ট নিজে ব্যালটে না থাকলে তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ ভোট দিতে কম আগ্রহী হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে রিপাবলিকানদের প্রধান লক্ষ্য এখন ট্রাম্পের ‘MAGA’ সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা।
ট্রাম্পও সাম্প্রতিক সময়ে ভোটারদের উদ্দেশে এমনভাবে প্রচার করছেন যেন তিনি নিজেই নির্বাচনের ব্যালটে রয়েছেন। আগামী মাসে তাঁর কেন্দ্রিক একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ট্রাম্প যদি নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পর দলের ওপর দায় চাপান, তাহলে বিষয়টি দলটির অভ্যন্তরে নতুন করে বিরোধ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের পর রিপাবলিকানরা যদি ট্রাম্প-পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবতে শুরু করে, তখন তাঁর সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই হারায়, তাহলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানও বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তখন তাঁকে ‘লেম-ডাক’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়বে এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের আস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় সম্ভাব্য পরাজয়ের দায় দলীয় নেতাদের ওপর চাপানোর কৌশল নিতে পারেন। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো সেই প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফল খারাপ হলে রিপাবলিকান নেতাদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে—তারা কি ট্রাম্পের ব্যাখ্যা মেনে নেবেন, নাকি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করবেন?
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাই শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না; এটি ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।