কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১১১

কলম্বিয়ার ক্যালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপ
কলম্বিয়ার ক্যালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপ

মুক্তমন রিপোর্টার : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধসে পড়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র।

ভূমিকম্পে রিসারালদা অঞ্চলে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভায়েয়ে দেল কওকা, কালদাস, অ্যান্টিওকিয়া ও চোকোসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি, আহত এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট জানান, এর মাধ্যমে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত উদ্ধার ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র আলেহান্দ্রো এদের। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের ভবনগুলোর কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। বড় ধরনের ফাটল দেখা গেলে দ্রুত ভবন খালি করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ভায়েয়ে দেল কওকা অঞ্চলের গভর্নর দিলিয়ান ফ্রান্সিসকা তোরো জানিয়েছেন, ক্যালির একটি আংশিক ধসে পড়া হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচেও কয়েকজন রোগী আটকা পড়েছেন। কাঠামোগত ক্ষতির কারণে শহরের আরও কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ ও খালি করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও যারা আটকা পড়ে আছেন, তাদের উদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

ভূমিকম্পের কারণে পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরার বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ফলে কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাজধানী বোগোতায়ও ভূমিকম্পটি বেশ শক্তভাবে অনুভূত হয়। বিভিন্ন ভবনে অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং আতঙ্কিত মানুষ নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

তবে বোগোতার মেয়র কার্লোস গালান জানিয়েছেন, রাজধানীতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কিছু ভবনে ফাটল দেখা গেছে বলে জানান তিনি।

USGS-এর হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় ২০ লাখের বেশি মানুষ খুব শক্তিশালী কম্পনের মধ্যে ছিলেন। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, দুর্বলভাবে নির্মিত ভবনগুলোতে এ ধরনের কম্পনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশ থেকেও সহায়তার আশ্বাস এসেছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম কলম্বিয়াকে তার সরকারের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।