মুক্তমন রিপোর্টার : ময়মনসিংহে মিশুক ছিনতাই করতে গিয়ে চালক মো. নাজিম উদ্দিন (৪০) হত্যার মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাশকে ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তোফায়েল আহমেদ নাসিম ও শাকিলকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন পলাশ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি তোফায়েল আহমেদ নাসিম ও শাকিল।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে তোফায়েল ও শাকিলকে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আর পলাশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে মিশুক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নাজিম উদ্দিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিন আসামি দাপুনিয়া বাজার থেকে তার মিশুক ভাড়া করেন। পরে তারা নাজিমকে কোতোয়ালি থানার সুহিলা মধ্যপাড়া এলাকার কাদুরবাড়ী এলাকায় একটি স্যানিটারি কারখানার সামনে নিয়ে যান।
সেখানে নাজিমকে মারধর করে মিশুকটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আসামিদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ মিশুকটি উদ্ধার করে এবং তোফায়েল আহমেদ নাসিমকে আটক করে। পরবর্তী তদন্তে পলাশ ও শাকিলের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদেরও মামলায় আসামি করা হয়। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
মামলার বিচারকাজে আদালত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আকরাম হোসেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান আকন্দ নয়ন।
রায়ে আদালত পলাশকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই ধারায় তোফায়েল আহমেদ নাসিম ও শাকিলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় পিপি আকরাম হোসেন বলেন, মিশুক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে একজন চালককে হত্যা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির বিবেচনায় আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।