মুক্তমন রিপোর্ট: শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন।
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতার শিক্ষা যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে উচ্চশিক্ষিত অনেক ব্যক্তিও নীতি-নৈতিকতার জায়গায় পিছিয়ে পড়ছেন। তাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থা’র ২৬তম বৃত্তি প্রদান ও ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রইছ উদদীন বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সে নীতি-নৈতিকতায় সবার ঊর্ধ্বে থাকে। ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের অসংগতি দূর করতে সে ভূমিকা রাখবে এবং অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কণ্ঠস্বর সোচ্চার হবে।
তিনি আরও বলেন, নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
বর্তমান সরকারের ‘লার্ণিং উইথ হ্যাপিনেজ’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জবি উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনকে আনন্দময় ও কার্যকর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। কর্মসূচিটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থার সভাপতি আজাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সভাপতি শফিক আহমদ পিয়ার মেম্বারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম এবং দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাওলানা আহমদ আলী হেলালী, মাওলানা লুৎফুর রহমান ও মাওলানা আবুল বশর মোহাম্মদ ফারুক।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থার নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।