উত্তরায় আগুন : ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন


ইব্রাহিম সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (বা সংশ্লিষ্ট তারিখ) ভোরে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দীর্ঘদিনের ক্যানসার আক্রান্ত এক ফল ব্যবসায়ী, তার তরুণ সন্তান এবং এক কিশোরী ভাগ্নি।
নিহতদের পরিচয়
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলেন: হারিজ আহমেদ (৫১): পেশায় ফল ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বাসায় বসবাস করতেন।
রাহাব (১৯): হারিজ আহমেদের ছেলে।
ভাগ্নি (১৩): হারিজ আহমেদের ভাগ্নি (নাম প্রকাশ করা হয়নি)।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান
১১ নং সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি মোঃ ফিরোজ জামান জানান, ভবনের দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো ভবন (৬ তলা পর্যন্ত) ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
ঘটনার সময় হারিজ আহমেদের পরিবার ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় তাদের ঘুম ভাঙলেও তারা ঘর থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। চারদিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হওয়ায় তারা ভেতরেই আটকা পড়েন এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।
ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মোঃ ফিরোজ জামান অভিযোগ করেন, “ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের উদ্ধার কৌশলে ঘাটতি ছিল। তারা যদি দ্রুত বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করত, তবে হয়তো এই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো। মূলত সক্ষমতার অভাবেই আমরা তিনটি প্রাণ হারালাম।”
বর্তমান পরিস্থিতি
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।



