মুক্তমন রিপোর্ট : ভারতের মদদে বাংলাদেশে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তাঁর দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হুমকির মুখে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আন্দোলনে নামিয়ে এবং সেই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জাপানের মাধ্যমে ভারতকে করিডোর দেওয়া বন্ধ, ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা দমনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
খোমেনী ইহসান বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভারতের মদদে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে গত সেপ্টেম্বর মাসে সরকারকে সতর্ক করেছিলেন তাঁরা। তবে সরকার সেই সতর্কবার্তায় গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তহীনতায় ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।
‘ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরবেন’—এ ধরনের প্রচারণাকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, নিত্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে জনজীবনে চাপ সৃষ্টি, বিক্ষুব্ধ মানুষকে রাস্তায় নামানো, আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা ঘটানো এবং শেষ পর্যন্ত অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দমনমূলক পদক্ষেপের পরিবর্তে কার্যকর রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশে আরেকটি ‘ওয়ান-ইলেভেন’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
চলমান তৈরি পোশাকশ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে খোমেনী ইহসান বলেন, ন্যায্য মজুরি ও অধিকারের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন অন্যায় নয়। মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সরকার শ্রমিকদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন মজুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের মাসিক ২ হাজার টাকা মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। তাঁর মতে, এতে শ্রমিকেরা আশ্বস্ত হয়ে কাজে ফিরতে পারেন এবং কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বজায় থাকবে।
তবে শ্রমিক আন্দোলনে সরকারের ভারতপন্থি একটি অংশের সংশ্লিষ্টতা এবং আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাঙচুর ও নাশকতা চালানোর অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে খোমেনী ইহসান গত নয় মাসে ভারতের কথিত অপতৎপরতা বন্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার সহিংসতা, গুম, খুন, লুটপাট ও দখলদারির ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের অগ্রগতি জানতে চান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্যসচিব আবদুস সালাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এবং শাহ ফেরদৌস হাসান নাজমুল।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে করা অসম ও অধীনতামূলক চুক্তিগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় ভারত বাংলাদেশের ভূখণ্ড ট্রানজিট ও করিডোর হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জাপানের সহায়তায় নির্মিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ জানান তাঁরা। বক্তাদের মতে, ওই অঞ্চলগুলো চীন সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় এ উদ্যোগের ভূরাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে।
তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়; তবে কোনো দেশের সামরিক বা কৌশলগত করিডোর হতে চায় না। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, আগ্রাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাইন উদ্দীন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতা সাইদুল ইসলাম এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্যসচিব আরিফুল ইসলামসহ সংগঠনগুলোর নেতারা।
Muktomon/TA