গিয়াস রনি : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চুরির বিরোধকে কেন্দ্র করে হুমায়ন কবির (৬০) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া এলাকায় তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত হুমায়ন কবির চরচান্দিয়া গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে। পেশায় কৃষক হুমায়নের বাড়ি সোনাগাজীতে হলেও তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ছিলেন।
নিহতের ছেলে মিজানুর রহমান জানান, প্রায় ১৫-১৬ দিন আগে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের জিন্না মাঝি বাড়ির মো. ইলিয়াছের (৫৫) ছেলে নূর আমিনের (৩০) কাছ থেকে পাম্প মেশিন ভাড়া নিয়ে তাঁদের একটি পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হয়। এ সময় নূর আমিন তাঁদের তেল ও মাছ চুরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরে মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল হক দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
মিজানুর রহমানের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে তাঁর বাবা প্রতিবেশী আব্দুস ছাত্তারের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ইলিয়াছ ভুল বুঝে মনে করেন, হুমায়ন তাঁদের নিয়ে কথা বলছেন। পরে তিনি তাঁর দুই ছেলে নূর আমিন ও শুক্কুরকে ফোন করে সেখানে ডেকে আনেন। এরপর কয়েকজন মিলে লোহার রড, ধারালো কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর বাবার ওপর হামলা চালান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের একজন লোহার রড দিয়ে তাঁর বাবার মাথায় আঘাত করেন। আরেকজন ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি সরে যান। এতে তাঁর মুখের বাম পাশে ও বাম চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা মহিষ বিক্রির বায়না বাবদ ১৫ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মিজানুর।
পরে স্থানীয়রা হুমায়ন কবিরকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও বমি হওয়ায় চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তাঁকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনাটি ফেনীর সোনাগাজী থানার আওতাধীন এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি সেখানকার পুলিশকে জানানো হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনিও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী প্রতিনিধি
Muktomon/TA