কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনের বাংলাদেশের সেরা স্বীকৃতি পেল রিমার্ক-হারল্যান

কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনের বাংলাদেশের সেরা স্বীকৃতি পেল রিমার্ক-হারল্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক : কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনে দেশের সেরা কোম্পানির স্বীকৃতি পেয়েছে রিমার্ক-হারল্যান। শনিবার সন্ধ্যায় কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬ প্রদর্শনী শেষ দিনে রিমার্ক প্যাভিলিয়নে এসে সেরা প্যাভিলিয়ন ও সার্বিক বিবেচনায় দেশসেরা কসমেটিকস উৎপাদক কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতির এ ক্রেস্ট তুলে দেন আয়োজন স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও এস এম ফয়সাল মুনিম। রিমার্কের পক্ষ থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান ও হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিবসহ রিমার্ক টীম।

এ সময় এস এম ফয়সাল মুনিম বলেন, কসমেটিকস শিল্পে রিমার্ক-হারল্যানের অবদান ঈর্ষণীয়। কসমেটিকায় আধুনিক উৎপাদন সক্ষমতার প্রদর্শন, ব্যতিক্রমী স্টল ডিজাইন এবং পেশাদার উপস্থাপন আমাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। রিমার্কের প্যাভিলিয়ন শুধু পণ্য প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকেও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেছে। যে স্বীকৃতি আমরা প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া, দর্শনার্থী, ব্যাবসায়ি, উদ্যোক্তাসহ সবার কাছ থেকেই মিলেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা রিমার্ককে এই বিশেষ স্বীকৃতি দিতে পেরে আনন্দিত।

এমন স্বীকৃতিকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন রিমার্কের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাশ। তিনি বলেন, আজকের এই অর্জন শুধু রিমার্কের নয়, দেশের কসমেটিকস উৎপাদন সক্ষমতার স্বীকৃতি। ১৬ দেশের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে রিমার্কের সেরা হওয়া অবশ্যই আমাদের দেশীয় উৎপাদকদের আরো উৎসাহ যোগাবে। নকল-ভেজালের ভীড়ে ভোক্তাদের জন্য অথেনটিক পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতে কাজ করছে রিমার্ক। আজকের এই অর্জন আরো বেশি দায়িত্ব তুলে দিয়েছে।

রিমার্কের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, আমরা উৎফুল্ল, আনন্দিত। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই এমন স্বীকৃতি আমাদের অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করি আগামীতে আমরা আরো জোরালোভাবে মানুষের সামনে রিমার্কের নিত্য নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পণ্য নিয়ে আসতে পারবো। দেখাতে পারবো কসমেটিকস খাতে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অবস্থানও।

হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন, রিমার্ক তার পণ্য শুধু দেশের বাজারের জন্য নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নতুন এই অর্জন আমাদের আগামীর পথচলাকে আরো মসৃণ করে তুলবে।

রিমার্কের এমন অর্জনের খবরে শুভেচ্ছা জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে রিমার্কের অবদান অফুরন্ত। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়েছে। আমরা আশা করছি, রিমার্কের দেখানো পথে বাংলাদেশ কসমেটিকস খাতে আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারবে।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর হল নং-৪-এ আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর শেষ দিনেও সারাক্ষণ উপচেপড়া ভিড় ছিল রিমার্কের প্যাভিলিয়ন ঘিরে। মডেল ও অভিনেত্রী নাজিফা তুষি, শার্লিন ফারজানা, শবনম ফারিয়াসহ ইনফ্লুয়েন্সার ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল রিমার্কের কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য নিয়ে বিশেষ আগ্রহ। খ্যাতনামা তারকাদের রিমার্কের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের সময় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় রিমার্ক প্যাভিলিয়ন। তারকারা এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে রিমার্কের কসমেটিকস পণ্যের ভূয়সি প্রশংসা করেন। অথেনটিক পণ্য ক্রয়ে জনসাধারণের আরো সচেতনতা আহ্বান করেন। রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ‘স্পিন অ্যান্ড উইন’ কার্যক্রম আয়োজন করায় প্যাভিলিয়নজুড়ে ছিল বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

প্যাকেজিং ও করপোরেট সেলসে বিপুল অর্ডার

তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীজুড়ে রিমার্কের প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যের পাশাপাশি বিশ্বমানের প্যাকেজিং, প্রিন্টিং এবং ইনগ্রেডিয়েন্টস সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। শেষ দিন নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে রিমার্কের প্যাকেজিং এবং প্রিন্টিং সক্ষমতা নিয়েও। তারা নিজেদের ব্র্যান্ডের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজিং আইটেম অর্ডারসহ নানা বিষয়ে তথ্য নিয়েছেন।

রিমার্কের হেড অব প্যাকেজিং মো. আলী রেজা জানান, প্রদর্শনী চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি প্রিন্টিং, প্যাকেজিং এবং করপোরেট সেলস খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাণিজ্যিক অর্ডার নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যেক্তাদের মধ্যে রিমার্কের বিশ্বমানের প্যাকেজিং, প্রিন্টিং এবং ইনগ্রেডিয়েন্ট নিয়ে ছিলে বিশেষ আগ্রহ। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশী বায়ার ও কোম্পানিগুলোও রিমার্কের উৎপাদিত পণ্য এবং সক্ষমতা নিয়ে আগ্রহ দেখায়। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সহযোগিতা ও বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রিমার্ক ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি)’ সার্টিফিকেশন অর্জন করে। পরের বছর অর্জন করে গ্রীণ ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড। বর্তমানে রিমার্কের আধুনিক উৎপাদন কার্যক্রম সিজিএমপি, আইএসও ও হালাল মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে উৎপাদিত রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য বর্তমানে দেশের বাজারের পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারিত হচ্ছে।