মাইনুল ইসলাম রাজু : ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের সংরক্ষণ অভিযানে সমুদ্র ও নদীপথে নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে উপকূলীয় এলাকা থেকে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত টহল পরিচালনার পাশাপাশি আকাশপথেও নজর রাখা হচ্ছে।
৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ইলিশ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, মজুদ, কেনাবেচা ও বিনিময় নিষিদ্ধ রয়েছে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় অভিযানে দেশের ৯টি জেলায় নৌবাহিনীর জাহাজ ও কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। নদী, উপকূল ও ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে জাহাজ, ক্রাফট ও বোটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।
গভীর সমুদ্রে নজরদারির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নৌবাহিনীর জাহাজের পাশাপাশি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ব্যবহার করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার চেষ্টা এবং বিদেশি মৎস্যযানের অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অভিযান পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করছে নৌবাহিনী। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইলিশ আহরণে জড়িত ব্যক্তি ও অবৈধ মাছ ধরার নৌযানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
শুধু অভিযান নয়, মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা এবং প্রজননের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই এবারের সংরক্ষণ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে দেশের সমুদ্রসীমা ও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বরগুনা প্রতিনিধি