আবু কাওসার মাখন : নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি যাওয়া ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরার সন্ধানে রাজশাহীতে এসেছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে এবং তিনি আশা করছেন দ্রুত সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
পুলিশ ও পর্যটকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার নাটোর রেলস্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামকক্ষে ছিলেন ক্রিল ল্যান্ডার। ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে যাওয়ার সময় তিনি নিজের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিস এক ব্যক্তির কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
টাকা তুলে ফিরে এসে ক্রিল ল্যান্ডার দেখতে পান, ওই ব্যক্তি ও তাঁর জিনিসপত্র সেখানে নেই। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। তাঁর ব্যাগে একটি ম্যাকবুক, ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস ছিল। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। তাঁর পাসপোর্ট ও মুঠোফোন সঙ্গে থাকায় সেগুলো হারায়নি। বাংলাদেশে এটি তাঁর প্রথম সফর বলেও জানান তিনি। পুলিশ তাঁর জিনিসপত্র উদ্ধারে সহযোগিতা করছে বলেও উল্লেখ করেন এই পর্যটক।
রাজশাহীতে ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, জিডির পর নাটোর জেলা পুলিশ, সান্তাহার জিআরপি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে রাতে রাজশাহীর মহিলা কলেজের আশপাশে অবস্থান দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া থানা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেস মালিক ও কেয়ারটেকারদেরও বিষয়টি জানানো হয়। তবে ল্যাপটপে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ওসি।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ওই সময় তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে থাকার কথা থাকায় রেলওয়ে পুলিশ ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায়। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে চুরি যাওয়া মালামাল বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে এবং তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, আরএমপি, ডিবি, র্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা গেলে ল্যাপটপসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের আশা করছে পুলিশ।
পুলিশ ও ক্রিল ল্যান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে দর্শনার উদ্দেশে ট্রেনে যাওয়ার সময় ভুল করে নাটোরে নেমে যান তিনি। পরে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই যুবকের কাছে জিনিসপত্র রেখে এটিএম থেকে টাকা তুলতে গেলে তিনি ব্যাগ নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন ক্রিল ল্যান্ডার।
রাজশাহী ব্যুরো
Muktomon/TA