মুক্তমন রিপোর্ট : সম্প্রতি ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাংবাদিকদের নিয়ে কড়া মন্তব্য করার পর ব্যাখ্যা দিয়েছেন—তিনি নাকি ‘সব সাংবাদিক’ নয়, কেবল ‘হলুদ সাংবাদিকদের’ উদ্দেশে কথাটি বলেছেন।
প্রশ্ন হলো, একই বিষয়ে বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যাখ্যার মধ্যে এমন পার্থক্য কেন? একজন আলেমের বক্তব্যে অস্পষ্টতা থাকলে তা পরিষ্কার করা জরুরি। আর বক্তব্যে ভুল বা ঢালাও মন্তব্য হয়ে থাকলে, তা সরাসরি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ—কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করা এবং আমানত রাখা হলে খিয়ানত করা। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
ইসলাম সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও বিনয়ের শিক্ষা দেয়। তাই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার সময়ও স্পষ্টতা ও সততা বজায় রাখা জরুরি। ভুল হলে তা স্বীকার করা দুর্বলতা নয়; বরং নৈতিক সাহসের পরিচয়।
নিজের মন্তব্যের দায় এড়িয়ে যাওয়া, অসংগতি থাকলে তা পরিষ্কার না করা কিংবা ভুল স্বীকারের পরিবর্তে অজুহাত দাঁড় করানো—এসব আচরণ অবশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তবে সমালোচনার ক্ষেত্রেও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও প্রকৃত শব্দগুলো যাচাই করা প্রয়োজন।
একজন আলেম হোন কিংবা সাধারণ মানুষ—কথা ও কাজের সামঞ্জস্য সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় পরিচয়ের মর্যাদা শুধু কথায় নয়, সত্যবাদিতা, বিনয় ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায়।
সত্যকে স্পষ্টভাবে বলা, নিজের কথার দায় নেওয়া এবং ভুল হলে তা স্বীকার করাই হোক নৈতিকতার প্রকৃত পরিচয়।
Muktomon/TA