মুক্তমন রিপোর্ট : রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই মামলার পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ আসামির মধ্যে সাতজন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সাবেক লেটার রাইটার মাহবুবর রহমান, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম, সাবেক পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রাণী দাস এবং সটিং অপারেটর নুরুল মাসুদ।
মামলার পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, তাঁর ভাই পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, ট্রেজারার প্রণব কুমার সরকার, পোস্টাল অপারেটর গোলাম মোস্তফা বাচ্চু এবং তাঁর স্ত্রী রোকসানা আক্তার।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে প্রায় ১১০ জন গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ৩০ জুলাই ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
মঙ্গলবার সাত আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য ছয় আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু বলেন, প্রায় ১১০ জন গ্রাহকের সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নাসরিন আক্তার ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সঞ্চয়ের টাকা ফেরতের দাবিতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।
Muktomon/TA