সিলেটে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ কর্মশালা

সিলেটে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা
সিলেটে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা

মুক্তমন রিপোর্ট : মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’-এ অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক ও স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মধ্যে পার্থক্য যথাযথভাবে চিহ্নিত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী কার্যকর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার সিলেটে নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রত্যেক ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। অনেকেই প্রতারণা, শোষণ কিংবা মানবপাচারের শিকার হতে পারেন।

তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, অভিবাসী চোরাচালান একটি সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। ভিসা ও কাগজপত্র জালিয়াতি, দালাল ও মধ্যস্থতাকারী এবং এর পেছনে থাকা অপরাধী চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় অভিবাসী চোরাচালান, ভিসা ও কাগজপত্র জালিয়াতি, অপরাধী চক্র শনাক্তকরণ, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্র প্রতারণামূলক নিয়োগ, ভুয়া ভিসা ও কাগজপত্র এবং অবৈধ পথে বিদেশে পাঠানোর মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

এসব অপরাধ ক্রমেই জটিল ও আন্তঃদেশীয় হয়ে উঠছে উল্লেখ করে বক্তারা শুধু পৃথক ঘটনা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট অপরাধী নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক লেনদেন, মধ্যস্থতাকারী এবং সীমান্তপারের যোগসূত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

কর্মশালায় নতুন আইন বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, ইমিগ্রেশন, তদন্তকারী সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে নতুন আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে আইনটির প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর উইংয়ের সলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইন নতুন আইনের বিভিন্ন বিধান তুলে ধরেন। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম অভিবাসী চোরাচালানের অপরাধ, সম্ভাব্য ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ ও তদন্তের ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসী চোরাচালান শনাক্ত ও মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

এর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, ভিসা ও কাগজপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার সরওয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের রিটার্নস অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন ম্যানেজার প্রিয়া বাধান।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নতুন আইনের আলোকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও সহায়তা আরও জোরদার করার ওপর মত দেন।

Muktomon/TA