শিহাব উদ্দিন :গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নিয়ম মেনেই পাসপোর্টের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অফিসের সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজ। তিনি আবেদনকারীদের দালালের মাধ্যমে সেবা না নিয়ে সরাসরি অফিসে এসে নির্ধারিত নিয়ম ও সরকারি ফি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্য ও ছবি যাচাই-বাছাই করা হয়। আবেদনপত্রে কোনো ভুল বা তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে তা সংশোধনের জন্য আবেদনকারীকে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এটি নিয়মিত সেবা কার্যক্রমের অংশ।
নাহিদ নেওয়াজ বলেন, ‘আবেদনকারীদের নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ও সঠিকভাবে সেবা দেওয়ার জন্য আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। কোনো আবেদনকারীর কাগজপত্রে ভুল বা ঘাটতি থাকলে তা সংশোধনের জন্য জানানো হয়। কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এটি করা হয় না।’
তিনি বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের সেবা নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আবেদনকারীরা সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে সরাসরি অফিসের নিয়ম অনুসরণ করলেই সেবা নিতে পারবেন। দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কেউ প্রতারিত হলে বিষয়টি আমাদের জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পাসপোর্ট করতে আসা কয়েকজন আবেদনকারী জানান, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকেই দালালের ওপর নির্ভর করেন। এতে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। আবেদনকারীদের মতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকভাবে প্রস্তুত করে সরাসরি অফিসে গেলে দালালের প্রয়োজন হয় না।
অফিস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা। তাই আবেদনকারীর পরিচয়, তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই না করে কিংবা নিয়মের বাইরে গিয়ে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নেই। কোনো কাগজে ভুল বা ঘাটতি থাকলে তা সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই কিছু বিষয় প্রচার করা হয়। তাঁদের ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী সেবা দিতে গিয়ে কোনো আবেদনকারী অসন্তুষ্ট হলে সেখান থেকেই অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
নাহিদ নেওয়াজ আরও বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে। আমরা চাই, সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের দালালের সহায়তা ছাড়াই স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পাসপোর্টের সেবা নিক।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দালাল এড়িয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে সরাসরি অফিসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে পাসপোর্টের সেবা পাওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
Muktomon/TA