নরসিংদীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, হাসপাতালে ভর্তি ১০৪

নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে
নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে

সাইফুল ইসলাম রুদ্র : নরসিংদীতে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত জনবল ও শয্যা দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আগস্টের শেষ সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ৭২ জন। আর জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২১ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৯০০ জন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নতুন করে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই দিনে ৪১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১০৪ জন।

এর আগের দিন মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নতুন করে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ২৪ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১০২ জন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নতুন করে ৩৭ জন শনাক্ত হন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ৪১ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১০৫ জন। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হন, ৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন এবং হাসপাতালে মোট ভর্তি ছিলেন ১০৯ জন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষার চাপও বেড়েছে। নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান শাহ আলম মিয়া জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো, বর্তমানে সেখানে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৬০ জনের পরীক্ষা করতে হচ্ছে। পরীক্ষাগুলোর মধ্যে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ রোগীর ডেঙ্গুর নমুনা পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত জনবল দিয়ে সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে চিকিৎসকদের মতে, নরসিংদী ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় শহর ও আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যার চাপ বেশি। পাশাপাশি পৌরসভাগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, ঝোপঝাড় ও নর্দমা পরিষ্কারে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতিও ডেঙ্গুর বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

পলাশ উপজেলা থেকে ৪০ বছর বয়সী আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তিন দিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে পরীক্ষা করালে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় সুস্থ বোধ করছেন বলে জানান।

নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, যে হারে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামনে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকে ভর্তি না করে বাড়িতে রেখেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।