বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর ট্রফি উন্মোচন

বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান
বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান

দেশের অন্যতম বৃহৎ করপোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর ট্রফি উন্মোচন, ‘বিজিএমইএ-বাফুফে অংশীদারিত্ব উদযাপন’ এবং ১৬ দলের মেগা অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে এসব আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিমসহ দুই প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর ট্রফি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজিএমইএর পরিচালক ও স্পোর্টস কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ শাহ রাঈদ চৌধুরী বিজিএমইএ ও বাফুফের সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন। এ সময় নারী পোশাককর্মীদের নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ওভিসি প্রদর্শন করা হয়। এতে পোশাকশ্রমিকদের কর্মদক্ষতার পাশাপাশি ফুটবলে তাদের নৈপুণ্য তুলে ধরা হয়।

বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পের দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই নতুনভাবে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের টুর্নামেন্ট তাদের সঙ্গে শিল্পের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি ঢাকার পরিত্যক্ত মাঠগুলোর মধ্য থেকে একটি মাঠ বিজিএমইএকে বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান। মাঠ পাওয়া গেলে করপোরেট স্পনসরদের সহায়তায় সেটির আধুনিক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম বলেন, বিজিএমইএ একটি সুসংগঠিত পরিবার। যৌথভাবে তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাণিজ্য সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও বিজিএমইএ বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। ঢাকার অভ্যন্তরে উপযুক্ত মাঠ পাওয়া গেলে বিজিএমইএ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেগুলোর উন্নয়ন ও দেখভাল করবে। বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ যুক্ত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, বিগত ৫৬ বছরে ক্রীড়াঙ্গনকে যেভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে গড়ে তোলা উচিত ছিল, তা না হলেও বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় এর রূপান্তর শুরু হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালুর পাশাপাশি করপোরেট হাউজগুলোকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর মাঠের দাবির বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ঢাকার উত্তরা তৃতীয় ফেজ এলাকায় একটি মাঠ বরাদ্দের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের হাতে বিশেষ জার্সি তুলে দেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম।

এরপর ১৬টি দলের অংশগ্রহণে মেগা অকশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে গেল।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, সাবেক পরিচালক মো. ইমরানুর রহমান, স্পোর্টস কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ আলী খান, সাসটেইনেবল এনার্জি কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান সাপুসহ বিজিএমইএর বিভিন্ন কমিটির সদস্য এবং পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Muktomon/TA