মুখোশের আড়ালে ফেসবুকে ‘যৌন হয়রানির’ পোস্ট, ধাক্কার ঘটনায় নতুন মোড়

ফেসবুকে হয়রানিমূলক পোস্ট ও সাইবার হয়রানি নিয়ে প্রতীকী ছবি
ফেসবুকে হয়রানিমূলক পোস্ট ও সাইবার হয়রানি নিয়ে প্রতীকী ছবি

মঈনউদ্দিন মনি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তির ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে হয়রানি, অপমানজনক পোস্ট কিংবা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে কোনো ঘটনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার ফলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিক ও মানসিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

সম্প্রতি রাস্তায় বা বাসস্ট্যান্ডে চলাচলের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ‘যৌন হয়রানি’ সংক্রান্ত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কারও ছবি প্রকাশ ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়াকে ঘিরে তৈরি হতে পারে আইনি জটিলতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর কিংবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনগত অধিকার রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট পোস্ট বা ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতি, প্রকাশিত তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর।

সাধারণভাবে কোনো ব্যক্তিকে ভয়ভীতি, হুমকি বা মানহানির আশঙ্কা দেখিয়ে অর্থ, সুবিধা বা কোনো নির্দিষ্ট কাজ আদায়ের চেষ্টা করাকে ব্ল্যাকমেইল বলা হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, অডিও বা তথ্য ব্যবহার করে কাউকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও গুরুতরভাবে দেখা হয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ বা ছবি প্রকাশের প্রতিটি ঘটনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ব্ল্যাকমেইল’ বা ‘সাইবার অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত না করে ঘটনার প্রমাণ ও আইনগত বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।

যে পোস্ট, ছবি বা কমেন্ট নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন। সম্ভব হলে পোস্টের লিংক, পোস্টদাতার প্রোফাইলের লিংক, পোস্টের তারিখ ও সময় এবং সংশ্লিষ্ট কমেন্টগুলোর তথ্যও সংরক্ষণ করুন। কোনো তথ্য বা পোস্ট মুছে ফেলার আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়রানি, মিথ্যা তথ্য বা অন্যান্য প্রযোজ্য ক্যাটাগরিতে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট গ্রুপের অ্যাডমিন বা মডারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও পোস্টটি পর্যালোচনা বা অপসারণের অনুরোধ করা যেতে পারে।

তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে কোনো ধরনের হুমকি, গালাগালি বা পাল্টা হয়রানিমূলক পোস্ট থেকে বিরত থাকা উচিত।

ঘটনাটি গুরুতর হলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে আইনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা বা আইনজীবীর সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।

জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক কোনো পোস্টের জবাবে একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই উত্তেজিত হয়ে পাল্টা পোস্ট না দিয়ে প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করা উচিত।

এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী মানসিকভাবে চাপে পড়তে পারেন। তাই পরিবারের সদস্য, বিশ্বস্ত বন্ধু বা প্রয়োজনীয় পেশাদারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছবি, আংশিক ভিডিও বা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা হলে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

একইভাবে, কেউ যদি সত্যিই অনলাইন হয়রানি বা মিথ্যা তথ্য প্রচারের শিকার হন, তাহলে ভয় বা লোকলজ্জার কারণে নীরব না থেকে প্রমাণ সংরক্ষণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো উচিত।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Muktomon/TA