অরুণ কুমার সরকার : বাগেরহাটের চিতলমারীতে ২৫ বছর ধরে ভাইয়ের ভিটের এক কোণে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন স্বামী পরিত্যক্তা ও ভূমিহীন নীলিমা হাজরা। ভাঙাচোরা হোগলা ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে তৈরি বেড়ার ঘরটির ছাউনিও নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি পড়ে। এমন দুর্বিষহ অবস্থায় দিন কাটছে তার ও ছেলে বিপুল হাজরার।
নীলিমা হাজরার বাড়ি চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচপাড়া (দক্ষিণপাড়া) গ্রামে। প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী বিকাশ হাজরার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বিকাশ হাজরার বাড়ি নাজিরপুর উপজেলার সাচিয়া গ্রামে। এরপর গর্ভের সন্তানকে নিয়ে নীলিমা বাবার বাড়ির এলাকায় ফিরে আসেন এবং দরিদ্র ভাইয়ের ভিটের এক কোণে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন।
নীলিমার ছেলে বিপুল হাজরা বর্তমানে দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যেদিন কাজ পান, সেদিন পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা হয়। কাজ না থাকলে অনেক সময় অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয় তাদের।
কাঁদতে কাঁদতে নীলিমা হাজরা বলেন, সংসারের অভাব-অনটনের চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। ভূমিহীন হওয়ায় বিভিন্ন সময় মানুষের গালমন্দও শুনতে হয়। তিনি নিয়মিত স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা পেলেও বর্তমান বাজারদরে ওই অর্থ দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। নিজেদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
নীলিমার ভাই অমল মন্ডল বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি তার বোনকে থাকার জায়গা দিয়ে আসছেন। কিন্তু যে ঘরে নীলিমা ও তার ছেলে বসবাস করছেন, সেটির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। এভাবে কষ্টের মধ্যে তাদের জীবন কাটাতে দেখে তারও কষ্ট হয়।
প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা অরুণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, নীলিমা দীর্ঘদিন ধরে ভাইয়ের ভিটেতে বসবাস করছেন। ভাঙাচোরা ঘরে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাদের। খাবারেরও নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে নীলিমার ভাইয়ের সন্তানরাও বড় হচ্ছে, তাদেরও থাকার জায়গার প্রয়োজন রয়েছে। তাই সরকারিভাবে নীলিমাকে জায়গাসহ একটি বসতঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সমীর মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নীলিমা হাজরা ভূমিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার বসতঘরটি অস্বাস্থ্যকর ও জরাজীর্ণ। ঘরের ছাউনিও নষ্ট হয়ে গেছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পক্ষে ঘরটি মেরামত করা সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগে তাকে জায়গাসহ একটি বসতঘরের ব্যবস্থা করে দিলে পরিবারটি উপকৃত হবে।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, অসহায় পরিবারটি তার কাছে সাহায্যের আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীও নীলিমা হাজরার দীর্ঘদিনের দুর্দশা বিবেচনা করে দ্রুত সরকারি সহায়তার মাধ্যমে তার জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
Muktomon/TA