সৌদি আরবে হুথিদের হামলা, আহত ৭৩

হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা
হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা

মুক্তমন রিপোর্টার : সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভোরের দিকে আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় বেসামরিক এবং জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাদশাহ খালিদ বিমান ঘাঁটি এবং আবহা ও জাজানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুথিদের এটিই সবচেয়ে বড় হামলা বলে দাবি করা হচ্ছে।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে রিয়াদ।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি হুথিদের হামলাকে ‘নির্বোধ আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা বিপজ্জনক উসকানি এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা।

তিনি আরও বলেন, হামলার জবাব দেওয়া এবং সৌদি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চলে আসছে। ২০১৫ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বুহ মনসুর হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান।

হাদির সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

২০২২ সালে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এর আগে সোমবার হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি কারাগারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ১১ জন কয়েদি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিশোধ হিসেবেই মঙ্গলবার সৌদি আরবে হুথিদের বড় ধরনের হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।