মুক্তমন রিপোর্টার : স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মন্ত্রী স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা তুলে ধরেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ নতুন আইন হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ আইনে দলীয় মনোনয়ন এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বাতিল করা হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ, ক্ষমতার ভারসাম্য, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সুশাসন, নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকের শুরুতে হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের কারণে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।