মুক্তমন রিপোর্টার : আগ্নেয়গিরির ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরসহ ৫টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও রানওয়ে থেকে আগ্নেয়গিরির ছাই সরিয়ে নেওয়ার পর বিমানবন্দরগুলো খুলে দেওয়া হয়। এতে কয়েক দিন ধরে চলা বিমান চলাচলের বড় ধরনের বিঘ্ন কাটতে শুরু করেছে।
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী এবং প্রায় ২ হাজার ৯০০টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখিয়েছে, দমকলকর্মী ও ফায়ার ট্রাক ব্যবহার করে রানওয়ে এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার স্থান থেকে ছাই সরানো হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি বলেছেন, বিমান চলাচলের সময়সূচি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিমানগুলো উড্ডয়নের উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত করতে পরিদর্শন চালানো হবে।
মন্ত্রী জানান, পুনরায় চালুর পর প্রথম যে বিমানটি জাকার্তা থেকে ছেড়ে যায়, সেটি ছিল একটি কার্গো বিমান। তবে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর আগে উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়নযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে।
জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ শনিবার বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের পর মঙ্গলবার সকালেও অন্তত ৩ বার অগ্ন্যুৎপাত করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় ভূতত্ত্ব সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, মঙ্গলবারের অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব আগেরগুলোর তুলনায় বেশি নয়। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
আনাক ক্রাকাতাউ ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। পৃথিবীর ভূত্বকের বিভিন্ন প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এ অঞ্চলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রবণতা বেশি।
২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখের একটি অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলে সুনামি আঘাত হানে এবং ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।