মকবুল হোসেন : ময়মনসিংহ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, জনসেবা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় পিডিবির কর্মকর্তা জানান, গ্রিড থেকে লোড প্রাপ্তি সাপেক্ষে গড়ে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের বিলবোর্ড ও লাইটিং বন্ধ এবং রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে টিম গঠন করে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং গ্রাহকদের সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে ৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১২ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুইজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, ময়মনসিংহ জেলার ১৪টি উপজেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সদর দপ্তরসহ জোনাল ও সাব-জোনাল অফিসে সেচ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। চলতি গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে গ্রাহকদের পরিমিত ও সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পের আওতায় ভালুকা, ফুলপুর, হালুয়াঘাট, গৌরীপুর, মুক্তাগাছা ও ত্রিশাল উপজেলায় ২২৮টি কমিউনিটি পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের স্মল স্কিমের কাজ চলমান রয়েছে। পূর্বের চুক্তি বাতিল করে অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা জানান, উপজেলা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে রং ও কীটনাশক মেশানো মাছের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভেজাল মৎস্য খাদ্য, ভেজাল ও নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং খাদ্যের নমুনা নিয়মিত পরীক্ষাগারে পাঠানোর জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সব সরকারি দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
Muktomon/TA