ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা: রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচার হচ্ছে বেঁচে থাকার নির্দেশনা

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা: রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচার হচ্ছে বেঁচে থাকার নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান প্রথমবারের মতো সাধারণ নাগরিকদের জন্য পারমাণবিক হামলা মোকাবিলার বিস্তারিত নির্দেশনা প্রচার শুরু করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সরকারি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত বিশেষ ভিডিওতে নাগরিকদের বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণ, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এবং ফলআউট থেকে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। 

ইরানের সরকারি বার্তা অনুযায়ী, পারমাণবিক বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চারটি ঝুঁকি হলো তীব্র আলোকচ্ছটা, বিস্ফোরণের অভিঘাত, প্রচণ্ড তাপ এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিস্তার। ভিডিওতে নাগরিকদের বেসমেন্ট বা মজবুত ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া, জানালা থেকে দূরে থাকা এবং বাইরের বাতাস প্রবেশ করে এমন এয়ার কন্ডিশনার বা ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে অবস্থান, বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তেজস্ক্রিয় কণাগুলো বাতাসের মাধ্যমে দূর-দূরান্তেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভিডিওতে আরও বলা হয়েছে, কেউ যদি বিস্ফোরণের সময় বাইরে অবস্থান করেন, তাহলে তিনি যেন সরাসরি আলোর ঝলকানির দিকে না তাকান, মাটিতে উপুড় হয়ে মাথা ঢেকে ফেলেন এবং প্রথম অভিঘাত কেটে গেলে দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেন।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রচারণা এমন সময়ে শুরু হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নাতাঞ্জ অঞ্চলের নিকটবর্তী ভূগর্ভস্থ "পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন" স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা চলছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে ওই স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই টেলিভিশন প্রচারণা দেশটির জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হলেও এর মাধ্যমে তেহরানের উদ্বেগের মাত্রাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় যেখানে সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল, সেখানে এবার সরাসরি পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক পর্যবেক্ষক এটিকে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির সংকেত হিসেবে দেখছেন, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেনি।