নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৭০

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশ অভিযানে আটক ব্যক্তিরা
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশ অভিযানে আটক ব্যক্তিরা

মুক্তমন রিপোর্ট : নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭০ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। এর আগে শনিবার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ অভিযান চালানো হয়।

১৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ১৭০ জনের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, ১০ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

হাতিয়ায় আটক বেশি

থানাভিত্তিক অভিযানে হাতিয়া থানায় সর্বোচ্চ ৪৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং ছয়জনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪১ জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটক করা হয় ৩২ জনকে। তাদের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে বাকি ২৮ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোনাইমুড়ী থানায় আটক ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ১২ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১৭ জন, কবিরহাট থানায় ৯ জন, চাটখিল থানায় ৬ জন, সুধারাম মডেল থানায় ৪ জন এবং সেনবাগ থানায় ৩ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। চরজব্বর থানায়ও ৩২ জনকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

Muktomon/TA