ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা

ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলার অনুমোদন।
ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলার অনুমোদন।

মুক্তমন রিপোর্ট : ঋণ সুবিধা নিয়ে ভুয়া রপ্তানি বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলেসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনটি ঘটনায় মোট ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। অনুমোদিত তিনটি মামলার মধ্যে প্রথমটিতে ২২ জন, দ্বিতীয়টিতে ২২ জন এবং তৃতীয়টিতে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা নেওয়া হয়। পরে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি লেনদেন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে ও বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক এ এস এফ রহমান, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও এইচ শামসুদ্দোহা।

এ ছাড়া স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম ও পরিচালক কোহিনুর আবেদিন, ক্রিসেন্ট অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ঘটনায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের গ্রাহক হিসেবে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধাসহ ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও এসব ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

পরে নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯১ হাজার ৫৮২ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলারের অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এর বিপরীতে ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার দেশে না এনে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি।

দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। প্রকৃত পণ্য আমদানি না করেই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরে নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় ঘটনায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে তিনটি ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার, পারস্পরিক যোগসাজশ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি নিয়মিত মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Muktomon/TA