রেড চিটাগাং ক্যাটল জাত সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা


রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি) বাংলাদেশের একটি অনন্য ও ঐতিহ্যবাহী প্রাণিসম্পদ সম্পদ উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, এই জাত সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ উৎপাদন তুলনামূলক কম হলেও মাংসের গুণগত মান ও জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের সঙ্গে পৃথিবীর কোনো জাতের তুলনা হয় না। তাই এই জাত সংরক্ষণ আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
মঙ্গলবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই অর্থ যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যয় করা যায়, তাহলে আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, গুঁড়া দুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই দেশীয় তরল দুধ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপদ পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার ফলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি একটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এই সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
খামারি নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে, যা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম। তিনি বলেন, “অনেকে লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও ডেইরিকে জীবনের অংশ হিসেবে নিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করবে।”
নারী, শিশু ও বয়স্কদের পুষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপাদনের পরিসংখ্যান নয়, মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দুধ হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এলডিডিপির আওতায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেধা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, বিশেষ করে দরিদ্র ও শহুরে শিশুদের জন্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মো. শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মো. আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপির আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা বিষয়ে উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মোস্তফা কামাল।



