জাতীয়

‘অপরিকল্পিত হকার পুনর্বাসনে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়তে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদকঅপরিকল্পিত ও অপরিণামদর্শী হকার পুনর্বাসন নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলছে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ ছাড়া ফুটপাত ও সড়কে হকার বসানোর উদ্যোগ রাজধানীতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

শুক্রবার বিকেলে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রণীত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ফুটপাত ও সড়কের অংশে দাগ টেনে হকার বসানোর সিদ্ধান্ত ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে যান চলাচল ও জননিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আইপিডি বলছে, হকার সমস্যা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; দেশের প্রায় সব বড় ও মাঝারি শহরেই ফুটপাত দখল, চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের সমস্যা। তাই সারাদেশের নগর এলাকার জন্য সমন্বিত জাতীয় হকার ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

তাদের মতে, ফুটপাত মানুষের চলাচলের জন্য এবং সড়ক যানবাহনের জন্য—এটাই নগর ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা। সেখানে পথচারী চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় পথচারীদের জন্য মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা রাখার শর্তকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে আইপিডি বলেছে, আধুনিক নগর পরিকল্পনায় বাণিজ্যিক এলাকায় ১০ থেকে ১৬ ফুট এবং উচ্চ ঘনত্বপূর্ণ এলাকায় ২০ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত ফুটপাতের পরিকল্পনা করা হয়। এছাড়া মেট্রোরেল স্টেশন, বাসস্টপ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের কাছাকাছি হকার বসানোর সুযোগ রাখাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তবে নীতিমালার কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছে আইপিডি। হলিডে মার্কেট, নৈশকালীন বাজার এবং হকারমুক্ত এলাকা ঘোষণার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে প্রান্তিক হকারদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, হকারদের লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ও এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রকাশের বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।

আইপিডির মতে, প্রকৃত হতদরিদ্র ও প্রান্তিক হকারদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তবে অবৈধ দখলকে পুনর্বাসনের নামে বৈধতা দেওয়া উচিত নয়।

সংস্থাটি হকার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত চাঁদাবাজ, লাইনম্যান, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button