শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

অনলাইন ডেস্ক : আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে তাঁর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি। 

নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করতে এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পিল্লাই। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর সাহস, নৈতিক দৃঢ়তা এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার বিশেষভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 

নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের সময় আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সে সময় তিনি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন। তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। 

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

পিল্লাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফর রুয়ান্ডার বিচারক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও কাজ করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন তিনি। 

রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই বিচারব্যবস্থায় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অপরাধ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি ঘটে। গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার দায় নির্ধারণেও সংশ্লিষ্ট বিচারপ্রক্রিয়া নজির স্থাপন করে।

এ ছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিল্লাই। ২০১৯ সাল থেকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মামলায় তিনি বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি

নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলেও উল্লেখ করেছে কমিটি। 

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান স্বীকৃতি পেল।