নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সভায় বিগত ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় পুলিশ স্টাফ কলেজের ভূমি ব্যবহারে এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, আন্তর্জাতিক পুলিশ একাডেমিগুলোর সংগঠন INTERPA-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, ‘মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স’ এবং ‘মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কোর্স চালু, পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং ‘Training for the SAARC Countries’ আয়োজনের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন এবং পুলিশ সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অ্যাডহক ভিত্তিতে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক অ্যানালাইসিস পরিচালনা করছে। তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে কিংবা আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তুলে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে সাইবার স্পেসসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
Muktomon/TA