মুক্তমন রিপোর্ট : ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বিচারাধীন সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে কারা কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে কনডেম সেল থেকে সরিয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আসিবুর রহমান আসিফ এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) এবং ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার।
নোটিশে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেল থেকে সরিয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন আইনজীবী শেখ আসিবুর রহমান আসিফ, বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহ সদর থানায় গত ২৬ অক্টোবর দায়ের করা ৪৭ ও ৪৮ নম্বর মামলায় অরিত্র কুন্ডু বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩৮৫, ১৮৬ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দুটি করা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, তিনি বিচারাধীন মামলার আসামি, দণ্ডপ্রাপ্ত নন।
নোটিশে আরও বলা হয়, কারা বিধি অনুযায়ী কনডেম সেল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত। বিচারাধীন কোনো আসামিকে সেখানে রাখার বৈধ বিচারিক আদেশ না থাকলে তা সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫(৫) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এতে বন্দি মানসিক ও শারীরিক কষ্টের শিকার হচ্ছেন বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো সাংবাদিক বা সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেই তাঁর মানবিক মর্যাদা ও আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন করা যায় না। বিচারাধীন বন্দির সঙ্গে আইনসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
তাঁরা অবিলম্বে অরিত্র কুন্ডুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কারাগারে তাঁর অবস্থান ও পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিকে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে অরিত্রকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। অন্য বন্দিদের সঙ্গে রাখলে তাঁর ক্ষতি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতারা এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার মদদে কারা কর্তৃপক্ষ অরিত্রকে কনডেম সেলে রেখেছে।
বিএমএসএফ ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অরিত্র কুন্ডুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটিতে তাঁকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
Muktomon/TA