পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি তদন্তের আহ্বান

পাকিস্তানের নিহত সাবেক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির ভাই পল ভাট্টি।
পাকিস্তানের নিহত সাবেক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির ভাই পল ভাট্টি।

মুক্তমন রিপোর্ট : পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির নিহত খ্রিষ্টান মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির ভাই পল ভাট্টি। সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ এবং তাঁদের অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

২০০৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘুবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী হন শাহবাজ ভাট্টি। মন্ত্রিসভার একমাত্র খ্রিষ্টান সদস্য ছিলেন তিনি।

মন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯ সালে গোজরা দাঙ্গায় হামলার শিকার খ্রিষ্টানদের পক্ষে অবস্থান নেন শাহবাজ। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খ্রিষ্টান নারী আসিয়া বিবির পক্ষেও কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও কয়েক বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান আসিয়া বিবি। পরে কানাডায় আশ্রয় নেন তিনি।

খ্রিষ্টানদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকায় শাহবাজ ভাট্টি ধারাবাহিক হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে খ্রিষ্টান সংবাদমাধ্যম ‘ক্রিশ্চিয়ান টুডে’। ২০১১ সালে পাকিস্তানি তালেবানের সদস্যদের হাতে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ভাই পল ভাট্টি জাতীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় পল ভাট্টি বলেন, শাহবাজের মৃত্যুর পর থেকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা অনেকেই উগ্রপন্থীদের হামলার আশঙ্কায় নীরব হয়ে গেছেন। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা আইন অপব্যবহার, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বাল্যবিয়ে ও জোরপূর্বক বিয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।

ক্যাথলিক দাতব্য সংস্থা ‘এইড টু দ্য চার্চ ইন নিড’ (এসিএন) প্রকাশিত নিপীড়িত খ্রিষ্টানদের ওপর একটি প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুর ওপর নিপীড়নের বাস্তবতা তুলে ধরতে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পল ভাট্টি বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ তদন্ত পররাষ্ট্রবিষয়ক নির্বাচন কমিটি অথবা মানবাধিকারবিষয়ক যৌথ কমিটির নেতৃত্বে পরিচালনার প্রস্তাব দেন তিনি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার আহ্বানও জানান।

অনুষ্ঠানে এসিএনের প্রতিবেদনের সম্পাদক ড. জন নিউটন বলেন, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও সামাজিক অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে মিলে মানুষকে নিপীড়নের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমা বিশ্বে ধর্মীয় বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে খ্রিষ্টানবিরোধী বিদ্বেষের বিষয়টি অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না, এমনকি আলোচনার বাইরে থেকে যায়।

Muktomon/TA