চিতলমারীতে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভ

 বাগেরহাটের চিতলমারীতে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন।
বাগেরহাটের চিতলমারীতে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন।

অরুণ কুমার সরকার : বাগেরহাটের চিতলমারীতে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জড়িত নেতাদের শাস্তি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক দাবি করেছেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের অংশ নিতে দেখা যায়নি বলে জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নিয়ামত আলী খান, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. জবরুল শেখ, জয়নুল পারভেজ সুমনসহ অন্যরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সার ডিলার নিয়োগ কমিটিতে থাকা জাতীয়তাবাদী দলের কিছু নেতা অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিলারশিপ পাইয়ে দিয়েছেন। এ অভিযোগের তদন্ত করে জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কার ও শাস্তির দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে ইউএনও এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন।

এর আগে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, সার ডিলার নিয়োগ কমিটিতে তারা দুজন ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই নিয়োগ দিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ বলেন, নীতিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে সার ডিলারদের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ইউএনও খাদিজা আক্তার বিক্ষোভের পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বিষয় রয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের একজন নিয়ামত আলী খানের কাছ থেকে খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জয়নুল পারভেজ সুমনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে অনিয়মের ঘটনায় চার লাখ টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়া হয়েছিল। এসব কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ইউএনও। তিনি আরও বলেন, সার ডিলার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং প্রশাসনের বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

চিতলমারী বাগেরহাট প্রতিনিধি

Muktomon/TA