মুক্তমন রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ তিতাস-২৮ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। কূপটি থেকে শনিবার থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জ্বালানি সচিব জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়েই গ্যাস সংকট মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমানে তুলনামূলক বেশি ব্যয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।
এ কারণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিতাস-২৮ থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একই সঙ্গে তিতাস-২৯, তিতাস-৩০ ও তিতাস-৩১ নম্বর কূপের খননকাজও চলছে বলে জানান তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি—দুই ক্ষেত্রেই গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্মিলিতভাবে দৈনিক ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল থেকে আরও ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসসহ মোট দৈনিক ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ সম্ভাব্য ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিতাস-২৮ কূপ চালু হওয়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ১০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে ৩১টি কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ১৫০টি কূপ খনন সম্পন্ন হলে সেগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭৬২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া বিদ্যমান দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং পরিকল্পিত আরও দুটি এফএসআরইউ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজনিত সংকটের আগে দেশে প্রতিদিন ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।
সংকটের কারণে সরবরাহ কমে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছিল। তবে সরকারের জরুরি উদ্যোগের ফলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে স্থলভাগ ও সমুদ্র—দুই ক্ষেত্রেই গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বিজিএফসিএল সূত্র জানিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৯, তিতাস-৩০, তিতাস-৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপের খননকাজ এগিয়ে চলছে।
এসব কূপের খননকাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে। ফলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে মোট প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। পরে গত ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়।
পরীক্ষামূলক সরবরাহের সময়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তিতাস-২৮ কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার বা প্রায় ১৩ হাজার ফুট। কূপটি খননে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
Muktomon/TA