মুক্তমন রিপোর্ট : জন্মের পর থেকে প্রায় ৯ বছর ধরে কোয়ারেন্টিন ঘরে বন্দি জীবন কাটছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুটি লেপার্ডের। অবশেষে দীর্ঘ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে প্রাণী দুটি। তাদের জন্য ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হচ্ছে পৃথক বেষ্টনী।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে শুরু হওয়া সাফারি পার্কের অত্যাবশ্যকীয় ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় লেপার্ড দুটির জন্য আলাদা বেষ্টনী নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বেষ্টনী নির্মাণে ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রায় ১৫০ বর্গমিটার আয়তনের বেষ্টনীতে লেপার্ডদের চলাচল ও গাছে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রাকৃতিক গাছপালা রাখা হবে। তা সম্ভব না হলে কৃত্রিম গাছের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি থাকবে পানির সুবিধা ও রাতের বিশ্রামের জন্য আলাদা আশ্রয়স্থল।
বেষ্টনীটি সাফারি পার্কের কোথায় নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। স্থান নির্ধারণের পর সেটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
যেভাবে সাফারি পার্কে আসে লেপার্ড দুটি
সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় একটি গাড়ি থেকে দুটি লেপার্ড ও দুটি সিংহশাবক উদ্ধার করে পুলিশ। বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়।
পরে চারটি শাবককে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, শুরুতে তাদের তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিন শেডে রাখার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে সিংহশাবক দুটিকে পার্কের অন্য স্থানে নেওয়া হলেও লেপার্ডের শাবক দুটিকে কোয়ারেন্টিন শেডেই রাখা হয়।
উদ্ধারের সময় লেপার্ড দুটির বয়স ছিল মাত্র দেড় মাস। সেই থেকে প্রায় ৯ বছর একই ঘরে কাটিয়েছে তারা। এবার পৃথক বেষ্টনী নির্মাণের উদ্যোগে তাদের স্বাভাবিক চলাচল ও জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Muktomon/TA