ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনসহ ১১ দলীয় জোটের চার দাবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের ব্রিফিং
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের ব্রিফিং

মুক্তমন রিপোর্ট : ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের নেতারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় জোটের অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে চারটি দাবি তুলে ধরে জোটটি। দাবিগুলো হলো—

১. নির্বাচনে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।
২. ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে নির্বাচনের আগে প্রত্যাহার এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা।
৩. নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থার সংকট থাকলেও সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা এখনো রয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন বলে মনে করেন জোটের নেতারা।

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা এবং হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদের দাবি, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। তাঁদের হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু আশ্বাস বা বক্তব্য নয়, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান তাঁরা।

জোটের সমন্বয়ক বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক ইতিবাচক হলেও মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে আশ্বাসের মিল থাকতে হবে। তা না হলে বৈঠক ও আশ্বাসকে ‘আইওয়াশ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভোটের আগের পরিস্থিতি এবং অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় সম্ভাব্য চিত্র অনুমান করা যায়। তবে ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলাফল দেখেই জোট পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করবে।

১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি দেশব্যাপী আন্দোলনের দিকে গড়াতে পারে। এর রাজনৈতিক দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপে পরিবর্তন এসেছে, যা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। ভোটার স্থানান্তরের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়েও কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদের ভাষ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

Muktomon/TA