অনলাইন ডেস্ক: আজ ১৩ আগস্ট বিশ্ব বামহাতি দিবস (International Left-Handers Day)। প্রতি বছর ১৩ আগস্ট বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। সমাজে সংখ্যায় তুলনামূলক কম হলেও বামহাতি মানুষের স্বাতন্ত্র্য, বৈচিত্র্য এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।
যেভাবে শুরু হয় বামহাতি দিবস
আন্তর্জাতিক বামহাতি দিবসের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। দিবসটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন ডিন আর. ক্যাম্পবেল, যিনি Left-Handers Club-এর প্রতিষ্ঠাতা। ডানহাতি মানুষের জন্য বেশি উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠা সমাজব্যবস্থায় বামহাতিদের নানা অসুবিধার বিষয়টি সামনে আনাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
কাঁচি, ডেস্ক, লেখার সরঞ্জাম, কম্পিউটার মাউসসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের অনেক উপকরণ সাধারণত ডানহাতিদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। ফলে বামহাতি মানুষকে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে মানিয়ে নিতে হয়।
কত মানুষ বামহাতি?
বিভিন্ন গবেষণায় বিশ্বের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ১০ থেকে ১২ শতাংশ মানুষকে বামহাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে অঞ্চল, বয়স ও গবেষণার পদ্ধতি অনুযায়ী এই হার কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
বামহাতি হওয়া কোনো অস্বাভাবিকতা নয়। এটি মানুষের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যেরই একটি অংশ। কেউ ডানহাতি, কেউ বামহাতি, আবার কেউ দুই হাত প্রায় সমান দক্ষতায় ব্যবহার করতে পারেন।
শুধু সচেতনতা নয়, সমান সুযোগের বার্তা
বিশ্ব বামহাতি দিবসের অন্যতম বার্তা হলো—শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা না করে সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী তৈরির ক্ষেত্রে বামহাতিদের প্রয়োজনও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এ দিনে।
অনেক সফল মানুষই বামহাতি
বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল বহু ব্যক্তিকে বামহাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রাজনীতি, বিজ্ঞান, শিল্প, সংগীত ও খেলাধুলায় বামহাতি মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
তবে বামহাতি হওয়ার সঙ্গে সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা বা বিশেষ কোনো প্রতিভার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন ধারণাকে নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। ব্যক্তির দক্ষতা ও সাফল্যের পেছনে নানা ধরনের জৈবিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয় কাজ করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ আজকের দিনটি?
বিশ্ব বামহাতি দিবস মূলত একটি বৃহত্তর সামাজিক বার্তা দেয়—ভিন্নতা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। মানুষের হাত ব্যবহারের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, সামাজিক জীবন ও সুযোগের ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান মর্যাদা ও সুযোগ থাকা উচিত।
আজ ১৩ আগস্ট। বিশ্ব বামহাতি দিবসে তাই বামহাতি মানুষের স্বাতন্ত্র্য ও অবদানকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি সমাজের সব ধরনের বৈচিত্র্যকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।