মুক্তমন রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক আসন সক্ষমতার হিসাবে আগস্ট মাসে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা এমিরেটস। প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক আসন সক্ষমতা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রায়ানএয়ারের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। আগস্টে রায়ানএয়ারের সক্ষমতা ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন অ্যাভেইলেবল সিট কিলোমিটার (ASK)।
অ্যাভেইলেবল সিট কিলোমিটার বা ASK বিমান সংস্থার আসন সক্ষমতা পরিমাপের একটি প্রচলিত সূচক। নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত আসনের সংখ্যা এবং উড়োজাহাজের ভ্রমণ করা দূরত্বকে গুণ করে এই সক্ষমতা হিসাব করা হয়। ফলে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালিত ফ্লাইটের পরিধিও এই সূচকে প্রতিফলিত হয়।
আন্তর্জাতিক সক্ষমতার তালিকায় প্রায় ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ASK নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। প্রায় ২১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ASK নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে তুর্কিশ এয়ারলাইনস। কাতার এয়ারওয়েজ প্রায় ২১ বিলিয়ন ASK নিয়ে পঞ্চম এবং ডেল্টা এয়ারলাইনস প্রায় ১৭ বিলিয়ন ASK নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
এ তালিকায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সক্ষমতা প্রায় ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ASK, আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রায় ১৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ASK এবং এয়ার ফ্রান্সের সক্ষমতাও প্রায় একই পর্যায়ে। প্রায় ১৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ASK নিয়ে শীর্ষ দশের তালিকা সম্পন্ন করেছে লুফথানসা।
দুবাইকে কেন্দ্র করে এমিরেটসের বিস্তৃত দূরপাল্লার নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক সক্ষমতার দিক থেকে অন্য বড় বিমান সংস্থাগুলোর তুলনায় এগিয়ে রেখেছে। ASK সূচকে আসন সংখ্যা ও উড্ডয়নের দূরত্ব—দুটি বিষয়ই বিবেচনায় নেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবের মধ্যেই এই সক্ষমতার চিত্র সামনে এসেছে। সংঘাতের কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন তৈরি হলেও যাত্রী চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
দীর্ঘ সময়ের স্থগিতাদেশের পর এমিরেটসও দুবাই-কুয়েত রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে। তবে ওই রুটে সেবা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সংযোগকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমিরেটস। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো ফ্লাইট সূচি পুনর্বিন্যাস এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে কার্যক্রম সামঞ্জস্য করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।