মুক্তমন রিপোর্টার : ইসরায়েলের কাছ থেকে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে বড় একটি চুক্তি করেছে গ্রিস। ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামে এই প্রকল্পের আওতায় গ্রিসের জন্য একটি আধুনিক ও বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে ইসরায়েল।
সোমবার তেল আবিবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তরে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম এবং গ্রিসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইওয়ানিস বোরাস এতে স্বাক্ষর করেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিসের বৃহত্তর সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই চুক্তি করা হয়েছে।
গ্রিস আগামী এক দশকে নিজেদের সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্স ও ইতালির কাছ থেকে রণতরী কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে গ্রিসের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০ এবং আরও কিছু স্বল্প-পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
নতুন চুক্তির ফলে এসব ব্যবস্থার সঙ্গে ইসরায়েলি প্রযুক্তির সমন্বয়ে গ্রিসের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রিসের জন্য তৈরি করা হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ প্রকল্পের আওতায় গ্রিসে রপ্তানি করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে রাফায়েলের তৈরি ডেভিডস স্লিং ও স্পাইডার। পাশাপাশি ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি বারাক এমএক্স ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে যুদ্ধের সময় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প। বিবৃতিতে ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার কথাও পরোক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মাধ্যমে ইউরোপের একটি ন্যাটো সদস্য দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইসরায়েলি প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে।
অন্যদিকে, গ্রিসের জন্য চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক কাঠামোর আওতায় এনে দেশটির আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।