ডিএফটি ও আইকাও অডিটে জোর প্রস্তুতি, বেবিচকের অগ্রগতি ৮০ শতাংশের কাছাকাছি

ডিএফটি ও আইকাও অডিটে জোর প্রস্তুতি, বেবিচকের অগ্রগতি ৮০ শতাংশের কাছাকাছি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা মান আরও শক্তিশালী করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অডিটকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (DFT) এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর নির্ধারিত অডিট উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতির প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী ১৪ থেকে ১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে নিরাপত্তা অডিট পরিচালনা করবে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (DFT)। এ অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী ও কার্গোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে।

অন্যদিকে ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ICAO Universal Security Audit Programme – Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA) অডিট। এতে বেবিচকের সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন আইকাওর বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক এই দুটি অডিটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়মিতভাবে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর সমন্বয় সভার মাধ্যমে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর থেকেই আইকাও অডিটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকির জন্য তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি নিয়মিত গ্যাপ অ্যানালাইসিস, মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করছে, যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সব ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা যায়।

প্রতি মাসে বেবিচকের সদস্য (সিকিউরিটি)-এর নেতৃত্বে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া প্রতি দুই মাস অন্তর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় সভায় প্রস্তুতির অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সার্বিক প্রস্তুতির প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, উন্নত স্ক্যানারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জামের Factory Acceptance Test (FAT) ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব সরঞ্জাম আগামী আগস্টে দেশে পৌঁছাবে এবং ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অডিটের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বেবিচক একটি প্রি-অডিট (Pre-Audit) পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেবিচক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ICAO নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ছিল ৬৫ শতাংশ। এবারের লক্ষ্য ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জন করা। অন্যদিকে সর্বশেষ DFT অডিটে বাংলাদেশ কার্গো নিরাপত্তায় ১০০ শতাংশ এবং যাত্রী নিরাপত্তায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, চলমান প্রস্তুতি, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংযোজন এবং উচ্চপর্যায়ের তদারকির ফলে আসন্ন DFT ও ICAO অডিটে বাংলাদেশ আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে। এর মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈশ্বিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।