ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস

নেপালে নিহত বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৫৭৯; তিব্বতে নিহত ৩

নেপালে নিহত বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৫৭৯; তিব্বতে নিহত ৩

মুক্তমন রিপোর্ট : নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো ৫৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে নেপালি পুলিশের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চিতওয়ান জেলার ভাটির এলাকা থেকে ৬৪ জন এবং নওয়ালপরাসি পূর্ব এলাকা থেকে আরও ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জঙ্গল সাফারির জন্য পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র চিতওয়ানসহ কয়েকটি পৌরসভায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রায় ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

তিব্বতে নিখোঁজ ৫৫৮

নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বতেও ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জিরং সীমান্ত চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগস্থল। ফলে দুর্যোগের কারণে ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে’

বন্যা থেকে উদ্ধার হওয়া ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বরাল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যার পানি কাদার বিশাল স্রোতের মতো তাদের দিকে ধেয়ে আসে। পানি বাড়ার সময় তিনি স্ত্রীকে হাত ধরে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ধরে রাখতে পারেননি।

কেশব জানান, প্রায় এক ঘণ্টা পর পানি কমতে শুরু করে। এর মধ্যে কাদা তার বাড়ির ওপরের তলা পর্যন্ত উঠে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্ত্রীর পরিণতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে। সে আর নেই।”

ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

বুধবার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর নেপালের রাসুয়া জেলা এবং চীনের তিব্বতের গিরং অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দিয়েছে।

বন্যার পানিতে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে গেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

দুর্যোগের পর নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।